বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন চার গুণ বেড়ে ১৬০ কোটি টাকা
দেশে ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বাংলা কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) কোডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ গত এক বছরে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাশলেস বা নগদ অর্থহীন সমাজ গঠনের যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে, তার অংশ হিসেবে এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে সেই লেনদেনের পরিমাণ চার গুণ বেড়ে ১৬০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের আর্থিক খাতকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশজুড়ে বাংলা কিউআর সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করা, যাতে গ্রাহকরা খুব সহজেই তাদের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কেনাকাটা বা সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারেন।
বাংলা কিউআর কোডের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি একটি ইন্টার-অপারেবল প্ল্যাটফর্ম। অর্থাৎ, গ্রাহক যেকোনো ব্যাংকের বা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের অ্যাপ ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংকের কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন। এই আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা গ্রাহকদের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়াকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক সারা দেশে এই সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই ডিজিটাল পেমেন্ট কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নগদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
দেশের অর্থনীতিকে ক্যাশলেস করার এই যাত্রায় বাংলা কিউআর কোড একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। গত এক বছরের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

